গলায় খুশখুশে কাশি হলে কি করবেন - খুসখুসে কাশি কেন হয়
গলায় খুশখুশে কাশি হলে কি করবেন, কেন গলায় খুশখুশে কাশি হয়, খুসখুসে বা শুকনো কাশি হলে কি ঔষধ খাবেন এবং কিভাবে দ্রুত খুসখুসে শুকনো কাশি দুর করা যায় এই সকল বিষয় নিয়ে আপনি কি অনেক দুশ্চিন্তায় আছেন তাহলে
এখন থেকে আর কোন চিন্তা নেই কারণ শুকনো কাশি হলে কিভাবে দ্রুত প্রতিকার করা যায় তার কিছু গুরুত্বপুর্ণ উপায় নিয়ে আপনার সামনে আমি আর্টিকেলটি হাজির করলাম আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি অনেক উপকৃত হবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ গলায় খুসখুসে কাশি হলে কি ওষুধ খাবেন
- জেনে নিন গলায় খুশখুশে কাশি কেন হয়
- অতিরিক্ত কাশি হলে কি ঔষধ খাবেন
- দ্রুত শুকনো কাশি দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন
- ক্রমাগত শুকনো কাশি যে রোগের লক্ষণ
- উপসংহার
জেনে নিন গলায় খুশখুশে কাশি কেন হয়
আপনি কি জানেন শুকনো বা খুসখুসে কাশি কেন হয়, দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের থাকার কারণে এবং ধুলা-বালিকনা পশু পাখির লোম ফুলের রেণু, ভাইরাল ইনফেকশন এবং যেকোনো বিষাক্ত ধোয়া গলার মধ্যে প্রবেশ করার কারণে খাদ্যনালির টিস্যুতে এক ধরনের সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু তৈরি হয় যা
আরো পড়ুনঃকোষ্ঠকাঠিন্য দ্রুত নিরাময় করতে গুরুত্বপুর্ণ ৭টি খাবার
খাদ্যনালীর টিস্যুতে সুড়সুড়ির অনুভূত জাগায় ফলে কাশি হয়। তাছাড়াও আরো অনেক নানাবিধ কারণ আছে যেগুলোর কারণে শুকনো কাশি হতে পারে যেমন- (১) অতিরিক্ত গরমে ঘেমে গিয়ে সেই ঘাম শরীরেই বসে গেলে তা থেকে শুকনো কাশি হতে পারে । (২) ঠান্ডা জনিত সমস্যার কারণে শুকনো কাশি হতে পারে। (৩) অতিরিক্ত ধুমপান বা
নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করার কারণে খুসখুসে কাশি দেখা দেয়। (৪) আবহাওয়া বা ঋতুর পরিবর্তনের কারণে শুকনো কাশি হয়। (৫) তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে শুকনো কাশি হতে পারে। এই ধরনের কাশি যেকোন বয়সে হতে পারে কিন্তু বিশেষ করে বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে বেশি লক্ষনীয়। তবে আপনার যদি খুসখুসে বা শুকনো কাশি হয় তাহলে
নিশ্চয় এটি আপনার কাছে একটি বিরক্তিকর বিষয় মনে হয়। হ্যাঁ, আসলেই এটি একটি বিরক্তিকর বিষয়। কারণ স্বাভাবিক কাশির তুলনায় শুকনো কাশি একবার শুরু হলে বেশ কয়েক মিনিট চলতে থাকে আর অনেকক্ষণ যাবৎ কাশি হওয়ার কারণে বুক ব্যাথা গলা ব্যাথা মাথা ব্যাথাসহ আরো অনেক সমস্যার সম্মূখীন হতে হয় যা রীতিমত হাঁপিয়ে দেয়।
সাধারণত শুকনো কাশি হলে গলার মধ্যে ব্যথার সৃষ্টি হয় এবং কণ্ঠস্বর বসে যায় ফলে কথা বলতে অনেক সমস্যা হয়। মূলত শুকনো কাশি হলে এর জন্য কিছু ঘরোয়া টোটকা আছে সেই টোটকাগুলো অনুস্বরণ করলেই মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই শুকনো কাশি ভালো হয়ে যায় । কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে শুকনো কাশি হলে বা
লাগাতার কাশি হতেই থাকলে এর জন্য অবশ্যই ঔষধ খেতে হবে এবং নিয়মিত ডাক্তারের কাছে গিয়ে চেক করাতে হবে। অন্যথায় এটি মারাত্মক ক্ষতির দিকে চলে যেতে পারে।
অতিরিক্ত কাশি হলে কি ঔষধ খাবেন
এই আর্টিকেলে এতক্ষণ আমরা গলায় খুশখুশে কাশি কেন হয় তা জানলাম এবার আমরা জানবো যে, গলায় অতিরিক্ত খুশখুশে কাশি হলে কি করতে হবে বা কি ঔষধ খেতে হবে। দেখুন একটি বিষয় সদাসর্বদা স্বরণে রাখবেন মানুষ অভ্যাসের দাস। মানুষ তার নিজের শরীরকে যেইভাবে অভ্যাস্ত করবে তার শরীর ঠিক সেইভাবেই অভ্যাস্ত হবে।
আরো পড়ুনঃ৭২ ঘণ্টায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ - ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায়
উদাহরণ স্বরূপ আপনাকে দিয়েই বলি, আপনার যদি সামান্য ছোটখাটো রোগ হয় এবং সেই রোগ সারাতে হুট করেই ্ঔষধ খান অতঃপর রোগ সেরে যায় তাহলে পরবর্তীতে যদি ঐ ধরনের রোগ হয় সেক্ষেত্রে ঔষধ না খাওয়া পর্যন্ত রোগ সারতেই চাইবেনা। তাই ছোট ছোট রোগ হলে ঔষধ না খেয়েই রোগ সারানোর চেষ্টা করতে হবে।
এক্ষেত্রে আপনার যদি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাপক থাকে তাহলে তো কোন ওষুধের প্রয়োজনই নেই। আর শুকনো কাশির ক্ষেত্রে বলি, সাধারণভাবে শুকনো কাশি হলে সেই কাশি মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই সেরে যায় এর জন্য ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না যে ছোট ছোট ঘরোয়া টোটকা গুলো রয়েছে সেগুলো অবলম্বন করলেই চলে।
কাশির স্থায়িত্বকাল তিন প্রকার হয় যেমন (১) তিন সপ্তাহ পর্যন্ত যদি শুকনো কাশি হয় তাহলে তাকে বলে অ্যাকিউট কাশি। (২) যদি তিন থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত শুকনো কাশি হতেই থাকে তাহলে তাকে বলে সাব-অ্যাকিউট কাশি। (৩) আর যদি আট সপ্তাহের অধিক পর্যন্ত শুকনো কাশি লাগাতার চলতেই থাকে তাহলে সেই কাশিকে বলে ক্রনিক কাশি।
এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী কাশি অনেক মারাত্মক হতে পারে এবং এর কারণে অনেক বড় বড় রোগের সম্মুখীন হতে পারে। তাই কাশি হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসাধীন হতে হবে এবং সে অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে। তবে আপনার যদি অতিরিক্ত পরিমাণে শুকনো কাশি হয় তাহলে সেই কাশি সারাতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কর্তৃক পরামর্শকৃত কিছু ওষুধের নাম বলা হলো সে ওষুধ গুলো খেতে পারেন ইনশাআল্লাহ আশা করি ভালো ফলাফল পাবেন।
- এডোভাস সিরাপ(Adovas syrap)
- কফসিলস কফ সিরাপ(Coughsills cough syrap)
- সিনাকফ(Sinakof)
- গুয়াইফেনেজিন(Guaifenesin)
- বাসক সিরাপ(Bashok Syrap)
- তুলসী সিরাপ(Tulshi Syrap)
দ্রুত শুকনো কাশি দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন
পৃথিবীর কোন মানুষই নীরোগী নয় বরং প্রত্যেক মানুষেরই রোগ আছে। আর মানুষের রোগ হলে রোগ নিরাময়ের জন্য কতই না পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে এটাই স্বাভাবিক। তবে কারো মধ্যে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে আবার কারো কম হয়ে থাকে। যদি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে তাহলে নানাবিধ ছোট ও
আরো পড়ুনঃদ্রুত ওজন বাড়ানোর সহজ উপায়
বড় রোগ শরীরের মধ্যে জুড়ে বসে। আর যাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে তাদের মধ্যে রোগের আক্রমণ খুব কম হয়ে থাকে। তবে আপনার ক্ষেত্রে বলি আপনি যদি সুস্থ্য-সবল ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহনকারী একজন ব্যাক্তি হয়ে থাকেন তাহলে আপনার শরীরে রোগের আক্রমণ খুবই কম হবে। আর যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
কম হয়ে থাকে তাহলে রোগ বেশি হবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আর শুকনো কশির ক্ষেত্রে বলি শুকনো কাশি এমন একটি সেনসিটিভ রোগ যা অতিরিক্ত পরিমাণে হলে রীতিমতো হাঁপিয়ে দেই। সাধারণত শুকনো কাশি হলে এক সপ্তাহের মধ্যে এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তবে যদি এক সপ্তাহের অধিক পর্যন্ত চলতে থাকে তাহলে এমনি এমনি
ভাল হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কেননা অনেকদিন ধরে শুকনো কাশি হওয়ার লক্ষণ বড় রোগের কারণও হতে পারে। তবে অতিরিক্ত শুকনো কাশি হলে কিভাবে তা দ্রুততার সঙ্গে নিরাময় করবেন সে সম্পর্কে এখন আমি কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ ঘরোয়া টোটকা নিয়ে
আলোচনা করব যে টোটকাগুলো অবলম্বনে মাত্র এক থেকে দেড় বা দুই দিনের মধ্যেই অনেকটা আরামবোধ করবেন আল্লহর কাছে আশা করি। তাহলে চলুন এবার আলোচনা শুরু করি।
- প্রথমেই বলি তুলসী পাতার কথা, আসলে তুলসী পাতার মধ্যে এমন কিছু সক্রিয় উপাদান এবং এ্যান্টিবায়োটিক গুণ আছে যা শুধু কাশি নয় বরং অন্যন্ন রোগ নিরাময় করতেও বেশ কার্যকারি একটি উপাদান। তুলসী পাতা দিয়ে শুকনো কাশি দূর করতে অনেক মানুষ বিভিন্ন রকমভাবে পরামর্শ দিয়ে থাকেন তবে সঠিক পরামর্শ বা নিয়ম না জানার কারণে এর উপকারিতা বেশি পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে আমি সঠিক নিয়মটি বলে দিলাম। এর জন্য প্রথমে কিছু সতেজ তুলসী পাতা নিতে হবে এবং ভালো করে স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানির মধ্যে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এবং ভালোভাবে থেঁতো করে এর রস সামান্য পরিমাণ চিনি মিশ্রণ করে হালকা কুসুম কুসুম গরম করে খেয়ে নিতে হবে এভাবে মাত্র ১ থেকে ২ দিন খেলেই শুকনো কাশি ভালো হয়ে যাবে।
- দ্বিতীয়তঃ উপরের দেওয়া একই পদ্ধতিতে বাসক পাতার রস করে খেলেও শুকনো কাছে থেকে আরাম মিলবে ইনশাআল্লাহ।
- তৃতীয়ত এক গ্লাস পরিমাণ পানি ভালোভাবে ফুটিয়ে সেই পানি একবারে ঠান্ডা হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত অর্থাৎ আপনি যতদূর পর্যন্ত সহ্য করতে পারবেন সেই পানিতে পরিমাণ মতো লবণ মিশ্রিত করে গার্গল করলে শুকনো কাশি দূর হয়ে যাবে। তবে মনে রাখবেন যে পর্যন্ত পানি গেলে গিলে খেয়ে নিবেন তার আগ পর্যন্ত পানি দিয়ে গার্গল করবেন। এই লবণ মিশ্রিত পানি গলার মধ্যকার জীবানু গুলো ধ্বংস করে দেই।
- চতুর্থতঃ শুধু কাঁচা আদা চিবিয়ে খেলেও শুকনো কাছে দূর হয়ে যায় কারণ কাঁচা আদার মধ্যে অনেক এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণ থাকলেও এর মধ্যে থাকা যে ঝাঁঝালো তরল পদার্থটা থাকে সেটি কাশি দূর করতে ব্যাপক কার্যকরী।
- পঞ্চমতঃ খাঁটি চাপাতির রং চা এর মধ্যে এক চাকা আদা, কয়েকটি গোলমরিচ এবং লং মিশ্রিত করে চা খেলে দ্রুত শুকনো কাশি ভালো হয়ে যায়। শুকনো কাশি দূর করতে এটি একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি। তবে এইভাবে কয়েকদিন খেতে হবে তাহলেই শুকনো কাশি থেকে আরাম মিলবে ইনশাআল্লাহ।
ক্রমাগত শুকনো কাশি যে রোগের লক্ষণ
বিভিন্ন কারণ ভেদে শুকনো কাশি হতে পারে এ বিষয়ে এই আর্টিকেলের উপরের অংশে আলোচনা করা হয়েছে তবে আপনাদের বোঝানোর জন্য একই বিষয় একাধিকবার রিপিট হয়ে থাকে। তবে অতিরিক্ত শুকনো কাশি কোন কোন রোগের লক্ষণ বেয়ে আনে তা জেনে থাকা প্রত্যেক মানুষের উচিত। তবে আপনি নিশ্চয়ই জানতে চাচ্ছেন যে এই অতিরিক্ত এবং
আরো পড়ুনঃগর্ভাবস্থায় তলপেটে ব্যথা হওয়ার কারণ ও তার প্রতিকার
দীর্ঘস্থায়ী কাশি কোন কোন রোগের লক্ষণ হতে পারে তাহলে চলুন জেনে নিন। কাশি যদি স্বাভাবিকের তুলনায় তিন থেকে আট সপ্তাহ বা তারও অধিক লাগাতার ভাবে চলতেই থাকে তাহলে সেটা মারাত্মক পর্যায়ে চলে যেতে পারে এবং এর জন্য বড় বড় রোগের সম্মুখীন হতে পারেন যেমন-হাঁপানি, এ্যাজমা, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, যক্ষা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এমনকি এইডস এর লক্ষণও হতে পারে।
উপসংহার
এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলে গলার খুসখুসে বা শুকনো কাশি দূর করার জন্য অনেক রকম পদ্ধতির নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং দ্রুত কিভাবে শুকনো কাশি দূর করবেন তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘরোয়া উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আপনার শুকনো কাশি দূর করতে এই পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করলে অনেক উপকার পাবেন। তবে
এরপরেও যদি এক সপ্তাহের আগেই শুকনো কাশি ভালো না হয় এবং লাগাতার ভাবে অনেকদিন পর্যন্ত চলতেই থাকে তাহলে দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। তবে শেষ কথায় আরো একটি কথা বলতে চাই আমরা এই ধরনের স্বাস্থ্য সেবামূলক ও আরো অনেক তথ্যমূলক আর্টিকেল লিখে আপনাদের সেবায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকি। তাই আর্টিকেলের মধ্যে
কোনো তথ্য মিসটেক হয়ে থাকলে বা কোন ধরনের ভুল হয়ে থাকলে দয়া করে সেই ভুল মাফ করে দিবেন এবং আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনি যদি উপকারিতা পেয়ে থাকেন বলে মনে করেন তাহলে আর্টিকেলটি আপনার টাইমলাইনে রেখে দিতে পারেন এবং এই ওয়েবসাইটের বেল বাটনে ক্লিক করে পাশে থাকতে পারেন। আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
গ্রীনল্যান আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url